ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য
উপরিউক্ত দৃষ্টিভঙ্গী অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হলে ছয়টি মৌলিক বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
১. শিক্ষাব্যবস্থাকে একই সঙ্গে দীন ও দুনিয়ার প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হতে হবে।
২. পার্থিব জীবনের প্রয়োজনে যত প্রকার বিদ্যা শিক্ষা করতে হয় সে সবকেই ইসলামী দৃষ্টিকোণ হতে শিক্ষা দিতে হবে।
৩. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গোটা পরিবেশকেই ইসলামী ছাঁচে ঢালাই করতে হবে।
৪. উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয়ে ইসলামের সাথে মানব রচিত বিধানের তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে ইসলামের যৌক্তিকতা ও শ্রেষ্ঠত্ব শিক্ষার্থদের মনে বদ্ধমূল করতে হবে।
৪. যেহেতু কুরআন, হাদীস ও ফিকহ ইসলামী জ্ঞানের মূল উৎস, যেহেতু শিক্ষাব্যবস্থার উচ্চস্তরে উন্নতমানের মুফাসসির, মুহাদ্দিস ও ফকীহ সৃষ্টির উপযোগী বিশেষ কোর্স থাকতে হবে।
ইসলামী শিক্ষার বাস্তব রূপ
উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহকে লক্ষ্য হিসেবে স্থির করে যদি শিক্ষাব্যবস্থঅকে গড়ে তোলা হয় তা হলে ইসলামী শিক্ষার বাস্তবরূপ কি দাঁড়াবে সে বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা প্রয়োজন।
দীন ও দুনিয়া
প্রথম বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী শিক্ষাব্যবস্থাকে দীন ও দুনিয়ার প্রয়োজন পূর্ণ করার যোগ্য হতে হবে। দীন ও দুনিয়া কথাটি দ্বারা সাধারণত ধর্মীয় ও পার্থিব বলে কথিত দুটি পৃথ দিক মনে করা হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে ইসলামের দৃষ্টিতে দীন ও দুনিয়া দুটি সামঞ্জস্যহীন পৃথক সত্তা নয়। অন্যান্য ধর্মে যেহেতু জীবনের সকল দিক ও বিভাগের উপযোগী পূর্ণাঙ্গ বিধান নেই (অন্তত অন্য কোন ধর্মের নেতৃবৃন্দ এরূপ দাবি করেন না), সেহেতু সে সব ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় শিক্ষার সাথে তাদের পার্থিব শিক্ষার যোগাযোগ নেই। তারা দুনিয়ার প্রয়োজন পূরণ করার জন্য যে শিক্ষার ব্যবস্থা করে তা সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ ও ধর্মের প্রভাবমুক্ত। তারা ধর্মকে ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে বিশ্বাস করে এবং ব্যক্তিগতভাবেক ধর্মীয় প্রয়োজন পূরণ করার উদ্দেশ্যে তারা ঐ ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষার সাথে ধর্মীয় শিক্ষার পরিশিষ্ট জুড়ে দেয়।
কিন্তু ইসলাম ঐ ধরনের কোন ধর্ম মাত্র নয়; ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান। সুতরাং ব্যক্তিগত জীবনে ইসলামের ধর্মীয় অনুষ্ঠানসমূহ পালন করার উপযোগী শিক্ষাকে পূর্ণ ইসলামী শিক্ষা মনে করা মারাত্মক ভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। পার্থিব প্রয়োজন পূরণ করার জন্য যে শিক্ষার ব্যবস্থা করা অপরিহার্য, সে শিক্ষাকে যদি ইসলামী দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবেশন করা হয় তা হলেই তা ইসলামী শিক্ষায় পরিণত হয়।
মানুষকে পার্থিব জীবনে যা কিছু করতে হয় তা আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অনুযায় করলেই তা ইবাদতে পরিণত হয়। ব্যবসা-বাণিজ্য, শাসন ও বিচার, পারিবারিক ও সামাজিক কাজকর্ম সকল মানুষকেই করতে হয়। যারা আল্লাহকে স্বীকারই করেনা তাদেরও এসব কাজ না করলে চলে না। জীবনের সকল কাজকর্মেই তারা নিজেদের মনগড়া নীতি বা অন্য কোন মানুষের রচিত নীতি ও আইন অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয় তাহলে এ সবই ইবাদতে পরিণত হয়। ইসলামে কোন বিশেষ অনুষ্ঠাই শুধু ইবাদত নয়; গোটা জীবনটাকে ইবাদতে পরিণত করার উদ্দেশ্যেই মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে।
জীবনকে সঠিকভাবে পরিচালনা করার যোগ্যতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন। একথা যদি স্বীকৃত হয় তাহলে ইসলামী শিক্ষা বাস্তব জীবন থেকে পৃথক কোন নিষ্ক্রিয় শিক্ষা হতে পারে না। দুনিয়ায় আল্লাহর পছন্দনীয় জীবন যাপন করার উপযোগী শিক্ষাই ইসলামী শিক্ষা নামে অভিহিত হওয়ার যোগ্য। তাই ইসলামী শিক্ষায় দীন ও দুনিয়ার প্রচলিত ভিন্ন করে দেখাও অসম্ভব।
-সংগ্রীহিত
